Sunday, 11 January 2026

কুর্গ ভ্রমণ গাইড

কুর্গ দক্ষিণ ভারতের অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্র। এটি কর্ণাটক রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে পশ্চিমঘাট পর্বতে অবস্থিত। পাহাড়, জঙ্গল, ট্রেকিং এবং জলক্রীড়া উপভোগ করার জন্য এটি সেরা জায়গা। কুর্গের নিকটতম ছোট শহর হল মাদিকেরি।



  • সংক্ষেপে সারসংক্ষেপ :
    • ভ্রমণের ধরণ: অ্যাডভেঞ্চার/প্রকৃতি।
    • ভ্রমণের সেরা সময় : বর্ষাকালে এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে পূর্ণ সবুজ দৃশ্য দেখা যাবে।
    • অক্টোবর থেকে মার্চ: এটি ভ্রমণের সেরা সময়। আবহাওয়া খুব মনোরম থাকে।

    • বর্ষাকাল (জুন থেকে সেপ্টেম্বর): যারা জলপ্রপাত এবং অতি সবুজ প্রকৃতি ভালোবাসেন, তাদের জন্য উপযুক্ত। তবে এ সময় ট্রেকিং কিছুটা কঠিন হতে পারে।

            তবে কুর্গ বছরের যেকোনো সময় ভ্রমণের জন্য একটি জায়গা।

    • সময় কাটানোর সময়: ২-৩ দিন।
    • নিকটতম প্রধান শহর: মহীশূর
    • ভ্রমণের সর্বোত্তম মাধ্যম: ব্যক্তিগত গাড়ি, ব্যাঙ্গালোর, মহীশূর বা ম্যাঙ্গালোর থেকে বাস।

  • কিভাবে পৌঁছাবেন

কুর্গের নিজস্ব কোনো এয়ারপোর্ট বা রেল স্টেশন নেই।

    • ট্রেন/বিমান: নিকটতম বড় শহর হলো বেঙ্গালুরু (২৬০ কিমি) বা মহীশূর (১২০ কিমি)। আপনি কলকাতা থেকে বিমানে বেঙ্গালুরু এসে সেখান থেকে বাস বা গাড়ি নিতে পারেন।
    • সড়কপথ: বেঙ্গালুরু থেকে বাসে বা ট্যাক্সিতে ৫-৬ ঘণ্টা সময় লাগে। মহীশূর থেকে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা।

  • কুর্গে দর্শনীয়  স্থানগুলির তালিকা এবং মাদিকেরি থেকে দূরত্ব নিম্নরূপ :
    • রাজার সিট (Raja's Seat):  কুর্গের রাজারা একসময় তাঁদের রানীদের নিয়ে এখানে বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করতেন বলেই এই জায়গার নাম হয়েছে 'রাজাস সিট'। এটি পাহাড়ের ওপর একটি উঁচুতে অবস্থিত জায়গা যেখান থেকে নিচু উপত্যকা এবং আঁকাবাঁকা রাস্তার প্যানোরামিক ভিউ পাওয়া যায়।
      • মিউজিক্যাল ফাউন্টেন: সন্ধ্যার দিকে এখানে চমৎকার মিউজিক্যাল ফাউন্টেন বা সঙ্গীতময় ঝরনার প্রদর্শনী হয়, যা পর্যটকদের কাছে খুব জনপ্রিয়।

      • টয় ট্রেন (Toy Train): বাচ্চাদের জন্য এখানে একটি ছোট টয় ট্রেন আছে, যা পুরো বাগানটি প্রদক্ষিণ করে।

      • ফটোগ্রাফি: পাহাড়ের ঢাল বেয়ে আসা মেঘ এবং সূর্যাস্তের সিনেমাটিক শট নেওয়ার জন্য এটি কুর্গের সেরা জায়গা।

      • প্রবেশমূল্য ও সময়: এটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য খুবই সামান্য (জনপ্রতি প্রায় ২০ টাকা)।

       




    • অ্যাবে ফলস (Abbey Falls): 
      • অবস্থান: মাদিকেরি শহর থেকে মাত্র ৮ কিমি দূরে কফি এবং মশলা বাগানের ভেতরে এটি অবস্থিত।
      • বিশেষত্ব: প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতা থেকে জলরাশি নিচে আছড়ে পড়ে যা দেখতে অত্যন্ত মনোরম। পাহাড়ের ঝরনাগুলো মিলে এখানে কাবেরী নদীতে মিশেছে।
      • ঝুলন্ত ব্রিজ: ঝরনাটির ঠিক সামনে একটি ঝুলন্ত ব্রিজ আছে, যেখান থেকে ছবি তোলার জন্য সবচেয়ে সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়।
      • সময়: প্রতিদিন সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০ পর্যন্ত খোলা থাকে।
      • প্রবেশ মূল্য: জনপ্রতি ২৫ টাকা। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য আলাদা চার্জ লাগে।
      • সতর্কতা: ঝরনার নিচে জলে নামা বা সাঁতার কাটা সম্পূর্ণ নিষেধ। প্রধান গেট থেকে ঝরনা পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রায় ১৫-২০ মিনিট উঁচু থেকে নিচের দিকে নামতে হয়। 
      • টিপস: বর্ষার ঠিক পরে (জুলাই থেকে অক্টোবর) গেলে ঝরনার পূর্ণ রূপ দেখা যায়।


    • গোল্ডেন টেম্পল (Namdroling Monastery):  ৩২ কিমি - এই মন্দিরটি মহীশূর এবং কুর্গের মধ্যে অবস্থিত। নামদ্রোলিং নিংমাপা মঠটি বিশ্বের তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের নিংমা বংশের বৃহত্তম শিক্ষাকেন্দ্র। কর্ণাটক রাজ্যের মাইসুরু জেলার অংশ বাইলাকুপ্পেতে অবস্থিত, এই মঠটিতে পাঁচ হাজারেরও বেশি লামা (সন্ন্যাসী এবং সন্ন্যাসী উভয়) এর একটি সংঘ সম্প্রদায়, ইয়েশে ওডসাল শেরাব রালড্রি লিং নামে একটি জুনিয়র হাই স্কুল, একটি ধর্মীয় কলেজ (অথবা সন্ন্যাসী এবং সন্ন্যাসী উভয়ের জন্য শেদ্রা) এবং একটি হাসপাতাল রয়েছে।



    • দুবরে এলিফ্যান্ট ক্যাম্প: দুবারে হাতি ক্যাম্প কুর্গের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। Dubare Elephant Camp হলো কুর্গের একটি অনন্য পর্যটন কেন্দ্র যা কাবেরী নদীর তীরে অবস্থিত। এটি মূলত কর্ণাটক বন দপ্তরের একটি প্রকল্প যেখানে হাতিদের প্রশিক্ষণ এবং দেখাশোনা করা হয়।

      পর্যটকরা এখানে সরাসরি হাতিদের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ পান।

      • হাতিদের সাথে কর্মকাণ্ড: দর্শনার্থীরা এখানে হাতিদের স্নান করানো (Elephant Grooming), তাদের খাবার খাওয়ানো এবং মাহুতদের থেকে তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।

      • কাবেরী নদী পারাপার: এই ক্যাম্পে পৌঁছাতে হলে পর্যটকদের নৌকা করে কাবেরী নদী পার হতে হয়, যা একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। নদীর অগভীর জলে অনেকে রিভার রাফটিংও উপভোগ করেন।

      • প্রাকৃতিক পরিবেশ: ঘন জঙ্গলের মাঝে অবস্থিত এই ক্যাম্পটি পাখি দেখার (Bird watching) জন্য চমৎকার একটি জায়গা।

      • প্রয়োজনীয় তথ্য: এটি সাধারণত সকালে (৯:০০ AM - ১১:০০ AM) এবং বিকেলে (৪:৩০ PM - ৫:৩০ PM) পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে। সকালে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো কারণ তখন হাতিদের স্নান করানো এবং খাওয়ানো দেখা যায়।

       রাত্রিযাপনের জন্য সেখানে হোটেল পাওয়া যায়।

    • মান্দালপট্টি ভিউ পয়েন্ট: Mandalpatti View Point বা মান্দালপট্টি ভিউ পয়েন্ট হলো কুর্গের অন্যতম রোমাঞ্চকর এবং জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এটি মাদিকেরি শহর থেকে প্রায় ২৫-৩০ কিমি দূরে অবস্থিত। অফ-রোড জিপ রাইড উপভোগ করবার জন্য এখানে অবশ্যই যেতে পারেন।  

      মান্দালপট্টি সম্পর্কে কিছু মূল বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:

      রোমাঞ্চকর জিপ সাফারি ও অভিজ্ঞতা: মান্দালপট্টি যাওয়ার মূল আকর্ষণ হলো এর শেষ কয়েক কিলোমিটারের দুর্গম রাস্তা। সাধারণ গাড়ি সেখানে যেতে পারে না, তাই পর্যটকদের স্থানীয় ফোর-হুইল ড্রাইভ (4x4) জিপ ভাড়া করতে হয়।

      • অফ-রোডিং: উঁচু-নিচু এবং পাথুরে রাস্তার মধ্য দিয়ে জিপে করে পাহাড়ের চূড়ায় যাওয়া এক দারুণ রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

      • পাহাড়ের চূড়ার দৃশ্য: চূড়ায় পৌঁছানোর পর আপনি চারদিকে দিগন্ত বিস্তৃত  পশ্চিমঘাট পর্বতমালার সবুজ পাহাড় এবং মেঘের খেলা দেখতে পাবেন। একে অনেক সময় 'কুয়াশার পাহাড়' বলা হয়।

      • ট্রেকিং: যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তারা জিপে না গিয়ে নিচের বেস ক্যাম্প থেকে ট্রেকিং করেও ওপরে উঠতে পারেন।

      প্রয়োজনীয় তথ্য:

      • সেরা সময়: বর্ষাকালের পর (অক্টোবর থেকে জানুয়ারি) এখানে যাওয়ার সেরা সময়। তবে বর্ষাকালে গেলে চারপাশ অনেক বেশি সবুজ থাকে এবং মেঘের আনাগোনা বেশি দেখা যায়।

      • সময়সূচী: এটি সাধারণত সকাল ৬:০০ টা থেকে বিকেল ৫:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। খুব সকালে (সূর্যোদয় দেখার জন্য) যাওয়া সবচেয়ে ভালো।

      • খরচ: জিপ ভাড়ার জন্য সাধারণত ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা (পুরো জিপের জন্য) লাগতে পারে, যা ৫-৬ জন মিলে ভাগ করে নেওয়া যায়। এছাড়া বন দপ্তরের একটি ছোট প্রবেশমূল্য রয়েছে।

      টিপস: ওপরে ওঠার সময় বাতাসের বেগ অনেক বেশি থাকে এবং ঠান্ডা লাগে, তাই সাথে হালকা জ্যাকেট বা সোয়েটার রাখা ভালো। এছাড়া ওপরে কোনো দোকান বা খাওয়ার জায়গা নেই, তাই জল এবং শুকনো খাবার সাথে রাখবেন।



    • তালা কাবেরী - Talakaveri হলো দক্ষিণ ভারতের অন্যতম পবিত্র নদী কাবেরীর উৎসস্থল। এটি কুর্গের ব্রহ্মগিরি পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত এবং ধর্মীয় ও প্রাকৃতিক উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ইউটিউব ভিডিওর জন্য এটি একটি শান্ত এবং আধ্যাত্মিক জায়গা হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।

      তালাকাবেরীর মূল আকর্ষণ:

      • কাবেরী নদী ও কুন্ডিকা: এখানে একটি ছোট কুণ্ড বা জলাধার রয়েছে যাকে 'ব্রহ্ম কুণ্ড' বলা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, কাবেরী নদী এখান থেকেই উৎপত্তি লাভ করেছে। বছরের নির্দিষ্ট দিনে (তুলা সংক্রান্তি) এখান থেকে অলৌকিকভাবে জলের ধারা প্রবাহিত হতে দেখা যায়।

      • ব্রহ্মগিরি পিক ট্রেকিং: মন্দিরের ঠিক পাশেই ব্রহ্মগিরি পাহাড়ে ওঠার জন্য সিঁড়ি রয়েছে। ওপরে উঠলে চারপাশের সবুজ পাহাড় এবং উপত্যকার এক চমৎকার ৩৬০-ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায়।

      • ধর্মীয় পরিবেশ: এখানে ভগবান অগস্ত্যেশ্বর এবং গণেশের মন্দির রয়েছে। তীর্থযাত্রীরা সাধারণত এখানে পবিত্র স্নান সেরে পুজো দেন।

      প্রয়োজনীয় তথ্য:

      • অবস্থান: মাদিকেরি শহর থেকে এটি প্রায় ৪৪ কিমি দূরে অবস্থিত। গাড়ি বা ট্যাক্সিতে যেতে ১.৫ ঘণ্টার মতো সময় লাগে।

      • পোশাক বিধি: যেহেতু এটি একটি পবিত্র ধর্মীয় স্থান, তাই এখানে মার্জিত পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। হাফ প্যান্ট বা ছোট পোশাক পরে মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ।

      • আবহাওয়া: তালাকাবেরী বেশ উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায়ই ঘন কুয়াশা থাকে এবং আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা থাকে।

      • Bhagamandala হলো কাবেরী, কন্নিকে এবং সুজ্যোতি নদীর একটি পবিত্র মিলনস্থল বা ত্রিবেণী সঙ্গম, যা কুর্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। জায়গাটি তালা কাবেরী যাবার রাস্তায় ফলে সময় পেলে এই জায়গাটিও ঘুরে নিতে পারেন।  



    • চেলাভারা জলপ্রপাত  - 36 কিমি - চেলভারা জলপ্রপাত হল একটি প্রাকৃতিক জলপ্রপাত যা ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ভিরাজপেট থেকে প্রায় 16 কিমি দূরে বিরাজপেট - তালাকাভেরি রাজ্য সড়কে অবস্থিত চেয়ান্দনে গ্রামের কাছে কাবেরীর একটি উপনদী, ছোট স্রোত দ্বারা গঠিত।
    • কি খাবেন? (Local Cuisine)

      কুর্গের খাবার তার নিজস্ব মশলা এবং স্বাদের জন্য বিখ্যাত। ভিডিওতে এগুলো অবশ্যই দেখাবেন:

      • পান্ডি কারি (Pork Curry): কুর্গের সবচেয়ে জনপ্রিয় আমিষ পদ।

      • আক্কি রুটি (Akki Roti): চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি রুটি।

      • কাদাম্বুট্টু (Kadambuttu): ভাপে তৈরি চালের বল যা মাংসের ঝোলের সাথে খাওয়া হয়।

      • কুর্গি কফি: যেহেতু এটি কফি চাষের এলাকা, এখানকার ফ্রেশ কফি ট্রাই করতে ভুলবেন না।

    • কোথায় থাকবেন ও খরচ (Stay & Cost)

      থাকার জায়গা:

      • হোমস্টে (Homestay): কুর্গের আসল অভিজ্ঞতা পেতে কফি বাগানের ভেতরে কোনো হোমস্টে-তে থাকুন। (খরচ: ১,৫০০ - ৩,০০০ টাকা প্রতি রাত)।

      • রিসোর্ট ও হোটেল: মাদিকেরি শহরে বাজেটের মধ্যে হোটেল পাওয়া যায়। (খরচ: ২,০০০ - ৫,০০০ টাকা)।





      আনুমানিক খরচ (Estimated Cost):

      • বাজেট ট্রিপ (২ রাত ৩ দিন): জনপ্রতি ৮,০০০ - ১০,০০০ টাকা (বেঙ্গালুরু থেকে যাওয়া-আসা এবং থাকা-খাওয়া সহ)।

      • লাক্সারি ট্রিপ: ১৫,০০০ - ২০,০০০ টাকা বা তার বেশি।

  • ৩ দিনের আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা (Detailed Itinerary)

    দিন ১: কুশলনগরে প্রবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

    • সকাল: বেঙ্গালুরু থেকে রওনা হয়ে প্রথমে যান বাইলকুপ্পে (Bylakuppe)। এখানে গোল্ডেন টেম্পল বা নামড্রোলিং মনাস্ট্রি দেখুন। (সময়: ১-১.৫ ঘণ্টা)।

    • দুপুর: কাছেই অবস্থিত কাবেরী নিসর্গধাম (Nisargadhama) ঘুরে দেখুন। এটি একটি বাঁশ বাগান ঘেরা দ্বীপ যেখানে হরিণ পার্ক এবং ঝুলন্ত ব্রিজ আছে।

    • বিকেল: দুবরে এলিফ্যান্ট ক্যাম্প (Dubare Elephant Camp)এখানে হাতিদের গোসল করানো বা খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। (মনে রাখবেন, বিকেলের সাফারি ৫টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়)।

    • রাত: মাদিকেরি (Madikeri) শহরে চেক-ইন এবং বিশ্রাম।

    দিন ২: কফি বাগান এবং জলপ্রপাত

    • সকাল: জিপ ভাড়া করে চলে যান মান্দালপট্টি (Mandalpatti) ভিউ পয়েন্টে। মেঘের ওপর দিয়ে অফ-রোড জিপ রাইড আপনার ভিডিওর সেরা দৃশ্য হতে পারে।

    • দুপুর: ফেরার পথে অ্যাবে ফলস (Abbey Falls) দেখুন। এরপর কোনো একটি কফি বাগানে (Coffee Plantation) ট্যুর করুন এবং কফি তৈরির প্রক্রিয়া রেকর্ড করুন।

    • বিকেল: মাদিকেরি ফোর্ট (Madikeri Fort) এবং পাশেই অবস্থিত ওমকারেশ্বর মন্দির (Omkareshwara Temple) দর্শন।

    • সন্ধ্যা: রাজাস সিট (Raja's Seat) এ সূর্যাস্ত দেখে দিনটি শেষ করুন।

  • দিন ৩: আধ্যাত্মিকতা ও বিদায়
    • সকাল: তালাকাবেরী (Talakaveri) এবং ভাগমন্ডল (Bhagamandala) এটি কাবেরী নদীর উৎসস্থল এবং এখান থেকে ব্রহ্মগিরি পাহাড়ের ভিউ দারুণ আসে।

    • দুপুর: ফিরতি পথে চিকলিহোল ড্যাম (Chiklihole Reservoir) ঘুরে দেখতে পারেন, যা বেশ শান্ত ও নিরিবিলি।

    • বিকেল: মহীশূর বা বেঙ্গালুরুর উদ্দেশ্যে রওনা।

    • অফবিট বা লুকানো রত্ন (Offbeat Places for unique shots)

      • মাল্লাল্লি ফলস (Mallalli Falls): উত্তর কুর্গে অবস্থিত এই জলপ্রপাতটি কুর্গের অন্যতম সুন্দর কিন্তু ভিড় কম হয়।

      • তাদিয়ানডামোল পিক (Tadiandamol Peak): যারা ট্রেকিং পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি কুর্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

      • চেলভারা ফলস (Chelavara Falls): কফি বাগানের গভীরে অবস্থিত একটি মনোমুগ্ধকর জলপ্রপাত।

      • প্রবেশমূল্য ও সময়সূচী (Entry Fees & Timings)

        স্থানপ্রবেশমূল্য (জনপ্রতি)সময়সূচী
        গোল্ডেন টেম্পলবিনামূল্যেসকাল ৯:০০ - সন্ধ্যা ৬:০০
        অ্যাবে ফলস১০ টাকাসকাল ৯:০০ - বিকেল ৫:০০
        নিসর্গধাম১০ টাকা (বড়দের)সকাল ৯:০০ - বিকেল ৫:০০
        মাদিকেরি ফোর্টবিনামূল্যে (সোমবার বন্ধ)সকাল ১০:০০ - বিকাল ৫:৩০
        মান্দালপট্টি জিপ৪,০০০ - ৫,০০০ টাকা (পুরো জিপ)সকাল ৬:০০ - বিকেল ৫:০০

Friday, 19 September 2025

Durga Puja in Bangalore and Cultural Program

Durga Puja 2025 in Bangalore and Cultural Program


LocationPuja Name
KTPO Grounds, East BangalorePoorva Bangalore Cultural Association
কাদুগুড়ি , বেঙ্গালুরু ইস্টAarohan - A socio cultural forum Kadugodi Belathur
East BangaloreThe EBCA Maha Pujo 2025
East BangaloreWhitefield Cultural Association - WCA
রামমূর্তি নগর , বেঙ্গালুরু ইস্টBengaluru Sreehatta Sammelani Durga Puja 2025
North BengaloreOikotan Hebbal Cultural Society
North BengaloreManpho Te Mahotsav
North BengaloreHCWA Sarbojonin Durgotsav
সেন্ট্রাল বেঙ্গালুরুKaggadasapura BengaliAssociation
Palace Ground, central Bangalore , Grand Castle Gate 6Bengaluru Durga Puja Committee - BDPC
Central Bangalore - Palace Ground - ( Gate 9)
সার্জাপুরSORRBA Sarjapur Outer Ring Road Bengali Association
HSR Layout, South sideBARSHA Maha Puja 2025
South BangaloreSBCA Sarbojanin Durgotsav
দক্ষিণ ব্যাঙ্গালোরে Banashankari, Bangalore, India, KarnatakaURCA Maha Durgotsav 2025
South BangaloreBegur Bengali Durga Puja 2025
South Bangalore - Electronics CityElectronic City Cultural Association (ECCA)

1. Poorva Bangalore Cultural Association, https://maps.app.goo.gl/FkXkvA4WwFAnrrTa62. Aarohan - A socio cultural forum Kadugodi Belathur, https://maps.app.goo.gl/675vRvY53fZCLth593. The EBCA Maha Pujo 2025, https://maps.app.goo.gl/VRc6scNJMdHy21gL84. Whitefield Cultural Association - WCA, https://maps.app.goo.gl/SSSVCP4VWYTPuh2c65. Bengaluru Sreehatta Sammelani Durga Puja 2025, https://maps.app.goo.gl/qMt6PHV8xJRpt9ET76. Oikotan Hebbal Cultural Society, https://maps.app.goo.gl/8rNFsniyoag7zFbA67. Manpho Te Mahotsav, https://maps.app.goo.gl/fr67sXhTsuaj4Utg78. HCWA Sarbojonin Durgotsav, https://maps.app.goo.gl/wkycpmqmPeyTXBa889. Kaggadasapura BengaliAssociation, https://maps.app.goo.gl/8bURg9ETG25FPojE910. Bengaluru Durga Puja Committee - BDPC, https://maps.app.goo.gl/TcRnYaGhZWimyLBH911. RT Nagar Bengali Socio Cultural Trust - The Famous Palace Ground Durga Puja, https://maps.app.goo.gl/A6NjRFVBpQawx92s712. SORRBA Sarjapur Outer Ring Road Bengali Association, https://maps.app.goo.gl/xaTnWZey8wD4VRNM713. BARSHA Maha Puja 2025, https://maps.app.goo.gl/tRP3PoMRxDzXreNs814. SBCA Sarbojanin Durgotsav, 15. URCA Maha Durgotsav 2025, https://maps.app.goo.gl/NLmpU6295kkuEWVF816. Begur Bengali Durga Puja 2025, https://maps.app.goo.gl/d3LX5TwQ15yTwz47617. Electronic City Cultural Association (ECCA), https://maps.app.goo.gl/a5q3Ds1N15gsFRjT6Socio Cultural Association, Indiranaga, SJP Kalyana Mantapa

ব্যাঙ্গালোরের কয়েকটি দুর্গাপূজার নাম ও ঠিকানা। List of Durga Puja in Bangalore

ব্যাঙ্গালোরের কয়েকটি দুর্গাপূজার নাম ও ঠিকানা। আপনার জানা অন্য করো পুজো থাকলে কমেন্টে জানাবেন। 


1. BARSHA Bengali Association 

Address: Barsha Durga Puja Ground, VMR9+973, opp. Tcis, off Sarjapur Road, HSR Extension, Haralur, Bengaluru, Karnataka 5600681 

Phone: 063603 32517 


2. R.T. Nagar Sarbajanin Durga Puja Samiti 

Address: 6, Govindaraj Garden, Hebbal, Bengaluru, Karnataka2 

Phone: 099160 11033 


3. Sarathi Socio Cultural Trust 

Address: Mangala Kalyana Mantapa, Ganapathi Temple Rd, Koramangala 7th Block, Bengaluru, Karnataka 5600303 

Phone: 076196 81444 

Highlights: Cultural performances and traditional Bengali food. 


4. Sanskritik Bengali Association 

Address: 147, E End A Main Rd, 3rd Phase, J.P. Nagar, Bengaluru, Karnataka4 


5. South East Bengaluru Bengali Association 

Address: Samarthanam Trust, Sector 4, HSR Layout, Bengaluru, Karnataka5 


6. Bangalore Durga Puja Committee 

Address: Manyata Tech Park, Nagavara, Bengaluru, Karnataka5 


7. Bengali Association of Bangalore (B.A.B) 

Address: RBANMS Grounds, Near Commercial Street, Bengaluru, Karnataka 560042 

Phone: 080 2557 4444 


8. Whitefield Cultural Association 

Address: Whitefield Inner Circle, Near Forum Value Mall, Whitefield, Bengaluru, Karnataka 560066 

Phone: 098867 12345 


9. Sarjapur Outer Ring Road Bengali Association (SORRBA) 

Address: Sarjapur Road, Near Wipro Corporate Office, Bengaluru, Karnataka 560035 

Phone: 099867 54321 


10. Indiranagar Durga Puja 

Address: Indiranagar Club, 9th Main Road, HAL 2nd Stage, Indiranagar, Bengaluru, Karnataka 560038 

Phone: 080 2526 1234 

Address: Koramangala Club, 6th Block, Koramangala, Bengaluru, Karnataka 560095 

Phone: 080 2553 1234 


11.  Koramangala Durga Puja 

Address: Koramangala Club, 6th Block, Koramangala, Bengaluru, Karnataka 560095 

Phone: 080 2553 1234 


12. Ulsoor Durga Puja 

Address: Ulsoor Lake, Near Gurudwara, Bengaluru, Karnataka 560008 

Phone: 080 2555 6789 


13. Bengalee Association Ulsoor 

Address: 1A, Assaye Road, Sivanchetti Gardens, Bengaluru, Karnataka 560042 

Phone: 080 2557 4444 


14. Amader Pujo by Kanakpura Road Bengali Association 

Address: Elaan Convention Center, 46, Opp. Brigade Millennium, 7th Phase, JP Nagar, Bengaluru, Karnataka 560078 

Phone: 098867 12345 


15. Sri Kala Mantapa 

Address: 70, 15th Cross, Phase 3, JP Nagar, Bengaluru, Karnataka 560078 

Phone: 080 2553 1234 


16. Socio Cultural Association, Indiranagar 

Address: Sisu Griha Montessori and High School, 3, HAL 3rd Stage, Bhoomi Reddy Colony, New Thippasandra, Bengaluru, Karnataka 560075 

Phone: 080 2526 1234 


17. Bharsa Bengali Association, HSR Layout 

Address: BBMP Ground, HSR Layout, Bengaluru, Karnataka 560102 

Phone: 063603 32517 


18.  Bengalee Association (Ulsoor) 

Location: Ulsoor Road, Near Ulsoor Lake 

Phone: Not available 

Highlights: Traditional rituals, cultural programs, and authentic Bengali food stalls. 


19. Bangalore Durga Puja Samiti (Koramangala) 

Location: Mangala Kalyana Mantapa, Koramangala 3rd Block 

Phone: Not available 

Highlights: Grand idol, cultural events, and a variety of Bengali delicacies. 


20. Jayamahal Durga Puja 

Location: Jayamahal Park, Near Cantonment Railway Station 

Phone: Not available 

Highlights: Cultural events and traditional rituals. 


21. North Bangalore Cultural Association (Hebbal) 

Location: RBI Layout, Judicial Layout, Hebbal 

Phone: Not available 

Highlights: Traditional rituals and cultural programs. 


22. The Bengali Association (Banashankari) 

Location: BDA Complex, Near Banashankari Temple 

Phone: Not available 

Highlights: Traditional rituals and cultural programs. 


23. Hoysala Bengali Association (HSR Layout) 

Location: Hoysala Community Centre, HSR Layout, 2nd Sector 

Phone: Not available 

Highlights: Cultural performances and traditional Bengali food. 


24. Bangalore Kali Bari (Indiranagar) 

Location: 2nd Stage, Indiranagar, Near BDA Complex 

Phone: Not available 

Highlights: Traditional rituals and cultural programs. 


25. Techies United Durga Puja (Electronic City) 

Location: Ajmera Infinity Clubhouse, Electronic City Phase 1 

Phone: Not available 

Highlights: Cultural events and traditional Bengali food.

Friday, 25 April 2025

পেহেলগাও জঙ্গি আক্রমণের দিন

 ২২ শে এপ্রিল, মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৪ টায় আমরা পেহেলগাও হোটেল ছেড়ে জম্মুর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আমাদের ট্রেন রাত্রি ৯ টা ২৫ মিনিট। এত আগে রওনা দেবার কারণ ২০ শে এপ্রিল রবিবার মেঘভঙ্গা বৃষ্টিতে NH44  ধস নেমে গত দুই দিন রাস্তা বন্ধ। সোমবার সন্ধ্যা অবধি রাস্তা খোলেনি দেখে আমাদের কাশ্মীরি ড্রাইভার আজিজ ও ফাজিল সুলতান বললেন মঙ্গলবার রাস্তা ঠিক হবার কোনও আশা নেই। অথচ আমাদের জম্মু থেকে দিল্লি যাবার ট্রেন মঙ্গলবার। যদি এই ট্রেন ফেল করি তবে দিল্লি থেকে বেঙ্গালুরু ফিরবার প্লেন ধরতে পারব না। আবার আমার মা, বা, দিদির দিল্লি- শিয়ালদহ রাজধানী ট্রেনের টিকিটও ওই একই দিনে। অর্থাৎ যদি জম্মু ফিরে ট্রেন ধরতে না পারি তবে দিল্লির থেকে ট্রেন বা প্লেন কিছুই ধরতে পারব না। এতে আর্থিক ভাবে ক্ষতি তো হবেই তবে তার চেয়েও বড় সমস্যা হবে ঘরে ফিরবার ট্রেন বা প্লেন এর টিকিট পেতে। ইতিমধ্যেই শ্রীনগর থেকে দিল্লির প্লেন ভাড়া তখন বেড়ে ২০/২৫ হাজার টাকার বেশি। আমাদের দরকার মোট ৭টা টিকিট যা কেনা অসম্ভব। 


আমাদের ড্রাইবাররা নিজে থেকেই প্রস্তাব দিলেন ঘুর পথে জম্মু পৌঁছানোর জন্য। ঘুর পথ বলতে মোঘল রোড যা কিনা পীর পাঞ্জাল পাস্ থেকে অনেক ঘুরে জম্মু পৌঁছায়। রাস্তাটা পাকিস্তান বর্ডার ঘেষা। এই রাস্তা তৈরি করেছিলেন মোঘল সম্রাট আকবর, কাশ্মীর থেকে করাচি যাবার উদ্দেশ্যে, তাই এর নাম মোঘল রোড। NH44 দিয়ে শ্রীনগর -জম্মু যেখানে সময় নেই ৫/৬ ঘণ্টা, এই রাস্তা নেয় ১৫/১৬ ঘণ্টা বা আরও বেশি। রাস্তা খুবই দুর্গম, প্রায় ১২ হাজার ফিট উচ্চতায় বরফে ঘেরা রাস্তা আমাদের পার করতে হবে। এই রাস্তায় খুবই দুর্ঘটনা প্রবণ, খারাপ রাস্তা ও যেকোনো সময়ে ধস নামবার সম্ভবনা এই রাস্তায়। একদিকে দুর্গম রাস্তা  অন্য দিকে এই রাস্তায় প্রায় ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে নেই কোনও জন বসতি, নেই মোবাইল নেটওয়ার্ক বা কোনও খাবারের দোকান। যদি গাড়ি খারাপ হয় তবে সেটা ঠিক করবার কোনও উপায় নেই এই ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে। এমন দুর্গম রাস্তা হবার ফলে কোনও ড্রাইভার এই রাস্তায় যেতে চায় না। এমনকি দ্বিগুণ ভাড়া দিলেও না। তারা পীর কি গলি নামক একটা জায়গা পর্যন্ত সর্বচ্চ যায় কারণ এখানে একটা দরগা রয়েছে। কিন্তু এর পরেই রাস্তা আরও খারাপ হয়। এই  রাস্তা পুরো শীতের সময় বন্ধ থাকে ও শীতের শেষে বরফ কেটে রাস্তা বের করা হয়। রাস্তার পাশে অনেক জায়গায় দেখেছিলাম ১২/১৫ ফুটের উঁচু জমা বরফ। যা কেটে রাস্তা বের করেছে সরকার। 



আজিজ ছিল আমাদের গাড়ির ড্রাইভার। বাড়িতে রয়েছে বয়স্ক বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানরা। ওনার স্ত্রী একটা শাল এর কারখানায় শাল তৈরির কাজ করে তবে সংসারের মূল উপার্জনকারী মানুষ হলেই এই আজিজ। ব্যাংক লোন গাড়ি কিনে ভাড়ায় চালাচ্ছে। EMI এখনও চলছে। 


 আমাদের দুই ড্রাইভার এর আগে এক সপ্তাহ যাবত খুব ভাল ভাবে কাশ্মীর ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন। আমাদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে নিজেরাই সন্ধ্যা ৭:৩০ নাগাদ বললেন এই দুর্গম রাস্তা দিয়ে আমাদের নিয়ে আসবেন জম্মুতে। ভোর ৩ টায় আমাদের যাত্রা শুরু করতে হবে জম্মুর উদ্দেশ্যে। সেই অনুসারেই আমরা বেরিয়েছিলাম, তবে একটু দেরিতে প্রায় পৌনে ৪ টা নাগাদ। 

আমরা যখন পহেলগাম বাজার পার করছি তখন সময় প্রায় ভোর ৪ টা। রাস্তায় কোনও মানুষজন , আর্মি, নাইট গার্ড, পুলিশ এমন কি রাস্তার কুকুর বিড়াল পর্যন্ত ছিল না। বাইরে তখন শূন্য ডিগ্রির মতো তাপমাত্রা , গাড়ির হিটার চালিয়ে আমরা চলেছি। ভোর হলো সিফিয়ান নামক একটা ছোট শহরে। ড্রাইভার থেকে জানলাম এই জায়গার আপেল কাশ্মীরের মধ্যে সব চেয়ে সুস্বাদু। এখানেই রাস্তার প্রথম মানুষের দেখা পেলাম , এনারা দিনের প্রথম নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে চলেছেন। তাদের থেকেই রাস্তা সম্পর্কে খোঁজ নিলেন আমাদের ড্রাইভাররা। রাস্তায় বেশ কয়েক জায়গায় আর্মি ক্যাম্প দেখলাম। কয়েক জায়গায় বাশ দিয়ে গেট বানানো কিন্তু একটু উঁচু করে রাখা যাতে ছোট গাড়ি বেরিয়ে যেতে পারে। সকাল ৬:১৫ নাগাদ সিফিয়ান শহরের বাইরে এক জায়গায় আমাদের আর্মিরা আটকে দিল। জানলাম সামনে শুরু হচ্ছে দুর্গম রাস্তা তাই দিনের আলো ভালোভাবে না ফোঁটা পর্যন্ত এই রাস্তায় কাউকে চলতে দেয় না। প্রায় দেড় ঘণ্টা দাড়িয়ে প্রায় ৮ টা নাগাদ আবার চলা শুরু হল আমাদের। আরেকটু এগিয়ে গিয়ে রাস্তায় এক জায়গায় পুলিশে দাঁড় করিয়ে ড্রাইভারকে সতর্ক করে দিল এক বয়স্ক পুলিশ অফিসার। জানতে চাইল আগে এই রাস্তায় সে গিয়েছে কিনা। এর পর থেকে শুরু হলো সেই দুর্গম ৫০ কিলোমিটারের যাত্রা। আমাদের গাড়ির ড্রাইভার আজিজ ভাইকে দেখলাম এই পর্যন্ত না কিছু খেল না কোথাও চা বা সিগারেট এর জন্য দাঁড়াল। তার একটাই লক্ষ্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই দুর্গম ৫০ কিলোমিটার রাস্তা পার হয়ে যাওয়া। 


রাস্তায় শুধুমাত্র পীর কি গলি নামক জায়গায় দাঁড়ালেন। এখানে একটা দরগা আছে। আমাদেরও বললেন চাইলে ৫ মিনিট ঘুরে দেখতে। সময় তখন প্রায় সকাল ১০ টা। খুবই খিদে পেয়েছিল , অল্প কিছু খাবার কিনলাম এখানে দরগার পাশের দোকান থেকে।  উনি দরগায় প্রার্থনা করে অল্প কিছু অর্থ দান করলেন। এই জায়গাটি সম্ভবত ১১০০০ ফুট এর বেশি উঁচুতে। ছিলো ভীষণ ঠান্ডা তারপর তীব্র বেগে হাওয়া। ঠান্ডায় কাপতে কাপতে আমরা আবার গাড়িতে উঠলাম। এই ঠান্ডায় দেখলাম এক বয়স্ক মানুষ লঙ্গর চালাচ্ছেন। তবে এই জায়গায় আসবার পথটি ছিল যেমন দুর্গম ঠিক তেমনি সুন্দর। পীর কি গলি পার হবার পরে দেখা পেলাম বরফ কেটে পরিস্কার করা রাস্তা। রাস্তার পাশে কোথাও ১০ ফুট তো কোথায় ১৫ ফুট উঁচু বরফ। সাথে ভাঙা পাহাড়ি একে বেঁকে চলা রাস্তা। শুধু এক দুই জায়গায় দেখা পেলাম পাহাড়ি ভেড়া পালকদের। তবে শ্রীনগর ও জম্মুর মধ্যে একমাত্র এই রাস্তা খোলা থাকার কারণে কিছু গাড়ি এই রাস্তায় চলছিল। আরও কয়েক ঘণ্টা চললাম এই রাস্তায়। তারপর সম্ভবত ১২/১২:৩০ নাগাদ দেখ পেলাম একটা ছোট পাহাড়ি গ্রামের। একটু এগিয়ে পেলাম কয়েকটা ছোট দোকান। এই প্রথমবার ড্রাইভার কে একটু চাপ মুক্ত দেখলাম। এখানেই প্রথম চা ও সিগারেট খেতে খেতে বলল আর চাপ নেই। আমরা সময় মতো পৌঁছে যাব জম্মুতে। আবার শুরু হলো আমাদের পথ চলা। এখনও ৫/৬ ঘণ্টার পথ বাকি আমাদের। রাস্তায় ছিল না দুপুরে খাবারের মতো কোনও দোকান। এই রাস্তাতেই দুপুর ৩ টা নাগাদ প্রথম খবর পেলাম পেহেলগাঁওতে জঙ্গি আক্রমণ হয়েছে। প্রথম খবর ছিলো দুই জন মতো আহত। 


দুপুর সাড়ে ৩ টা নাগাদ জম্মুর কাছাকাছি একটা জায়গায় খুব ছোট একটা হোটেলে  দাঁড়াই দুপুরের খাবারের উদ্দেশ্যে। তবে খাবার বলতে শুধু মাত্র রাজমা- ভাত আর তার সাথে পাঁপড়ের মতো চাপাটি রুটি। খাবারের পর পথে আর কোথাও না দাড়িয়ে আমরা চললাম জম্মুর উদ্দেশ্যে। সন্ধ্যা প্রায় ৭ টা নাগাদ পৌঁছলাম জম্মু তাওয়াই স্টেশনে। শেষ হলো আমাদের প্রায় ১৫ ঘণ্টার যাত্রা। আমাদের গাড়ির ড্রাইভার আজিজ ভাই গাড়ি থেকে নেমে জল খেতে গিয়ে মাথা ঘুরে বসে পড়লেন মাটিতে। এত লম্বা জার্নি, প্রায় কোনও রকম বিশ্রাম ছাড়া তারপর আগের রাত্রে মাত্র ৩/৩:৩০ ঘণ্টা ঘুম, সব মিলে শরীর ধকল নিতে পারেনি। তবু আমাদের কথা ভেবে এনারা এতটা কষ্ট করলেন। যদি ওই দিন এনারা আমাদের এভাবে কাশ্মীর থেকে বের করে না আনতেন তবে আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ হত। আমাদের দুই ড্রাইভার এর ছবি ও রাস্তার কয়েকটি ছবি দিলাম এই পোস্টে। 






—————————————- 

কাশ্মীরের পহেলগাও তে জঙ্গিরা যেভাবে সাধারণ পর্যটকদের ওপর বর্বরদের মতো গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে - এই ঘটনার নিন্দা করে কোনও লাভ আছে বলে মনে করি না, কারন এসব জঙ্গিদের কাছে এসব নিন্দার কোনও অর্থ নেই। আশাকরি আমাদের সরকার সেসব জঙ্গিদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দেবে। যে সকল মানুষ তাদের প্রিয়জনকে হারালো তাদের প্রতি সমবেদনা জানানো ছাড়া আমাদের আর কিই বা করবার আছে? দাবি করব সরকার যেন সেসব পরিবারকে যথাযথ আর্থিক সাহায্য করে যাতে মৃত দের  পরিবারের আর্থিক ভাবে সুবিধা হয়। সরকার ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছে তাদের কিছু ভুল ছিলো- এটা কাশ্মীর ঘুরবার সময় আমারও মনে হয়েছে কারণ বেশিরভাগ টুরিস্ট স্পটে সেভাবে সুরক্ষা ব্যবস্থা দেখিনি। হয়ত সরকার ভেবেছিল সাধারণ টুরিস্ট জঙ্গিদের টার্গেট হবে না। কিন্তু এসব বর্বরদের কাছ থেকে এমন নীতি নৈতিকতা আশাকরাই বড় ভুল। আশাকরি আগামীতে সরকার সে ভুল শুধরে নেবে। জঙ্গি আক্রমণের পরে গোটা দেশে বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ কাশ্মীরি আক্রান্ত হচ্ছে, এটা কখনোই কাম্য নয়। আমাদের সাহায্য করলেন তারাও যেমন সাধারণ কাশ্মীরি আবার জঙ্গি আক্রমণের প্রতিরোধ যে টুকু হয়েছিল সেও ছিলো সাধারণ কাশ্মীরি। টুরিস্টদের বাঁচাতে গিয়ে সে নিজেও প্রাণ হারিয়েছে। আবার ভিডিওতে দেখেছি কিভাবে সাধারণ কাশ্মীরি আহতকে পিঠে করে দৌড়ে নিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসার জন্য। খবরে পড়লাম কিভাবে স্থানীয় কাশ্মীরি টুরিস্ট ছোট মেয়েকে নিজের শরীর দিয়ে আগলে রেখেছে যাতে তার গুলি না লাগে - এভাবে সাধারণ কাশ্মীরি মানুষরাই টুরিস্টদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিলন, কেউ থাকবার জায়গা দিয়েছেন, কেউ খাবার দিয়েছেন আবার কেউ ফ্রি তে নিরাপদ জায়গায় টুরিস্টের পৌঁছে দিয়েছে। এসব ভিডিওতে দেখেছি বা খবরে পড়েছি। জঙ্গি আক্রমণের প্রতিবাদে কাশ্মীরে ইতিমধ্যেই মোমবাতি নিয়ে প্রতিবাদ ও গোটা কাশ্মীরে দুই দিন সার্বিক ভাবে বনধ হয়েছে। তাই অনুরোধ করব সাধারণ কাশ্মীরি মানুষের যেন কেউ জঙ্গিদের সাথে গুলিয়ে না ফেলে। তারাও আমাদের মতো সাধারণ মানুষ যারা শুধুমাত্র শান্তিতে বাঁচতে চায়। 

Thursday, 29 August 2024

পন্ডিচেরী ভ্রমণ গাইড

পন্ডিচেরী দক্ষিণ ভারতের অন্যতম ভ্রমণ স্থান। পন্ডিচেরী জায়গাটি তামিলনাড়ুর পাশে বলা ভাল তামিলনাড়ু ঘেরা ছোট্ট একটি কেন্দ্রশাসিত জায়গা।  পন্ডিচেরী সমুদ্রপ্রেমী ও ধার্মিক মানুষের জন্য খুবই উপভোগ্য জায়গা।  

  • সংক্ষেপে বিশেষ তথ্য 
    • কি ধরনণের ঘুরবার জায়গা: সমুদ্রসৈকত ও ধর্মীয়।  
    • বছরের কখন ঘুরতে যাওয়া যায়:  জায়গাটি দক্ষিণ ভারতে ও সমুদ্র এর পশে হবার জন্য এখানে গরম বেশ বেশি।  ফলে বছরের সব সময় যাওয়া গেলেও অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে এখানে আবহাওয়া খুবই ভাল থাকে। মে মাস নাগাদ এখানে খুবই গরম থাকে।
    • কত সময় প্রয়োজন ঘুরবার জন্য: ২ থেকে ৩ দিন।  
    • কাছের বড় শহর: চেন্নাই, তবে পন্ডিচেরী নিজেই একটা বড় জায়গা। 
    • কিভাবে যাওয়া যায়: কলকাতা থেকে প্লেনে ও ট্রেনে।
  • সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ১৬৭৩ সালে ফরাসিরা পন্ডিচেরী অধিকার করে, পরবর্তীতে ব্রিটিশদের সাথে ফরাসিদের অনেকবার যুদ্ধ হয়েছিল এই পন্ডিচেরির অধিকার নিয়ে তবে প্রায় সব সময়ই ফরাসিরা তাদের অধিকার পন্ডিচেরির পরে কায়েম রাখতে পেরেছিল। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পর ১৯৫৪ সালে ফরাসিররা পন্ডিচেরী ভারত সরকারের কাছে হস্তান্তর করে  এবং ১৯৬২ সালে আনুষ্টানিক ভাবে পন্ডিচেরী ভারতবর্ষের অংশ হয়।  পন্ডিচেরিতে এখনো ফরাসি সংস্কৃতি বজায় আছে।   
  • কিভাবে যাবেন, কলকাতা থেকে পন্ডিচেরীতে ট্রেন বা প্লেনে চলে আসতে পারেন। হাওড়া থেকে ১২৮২৭ ট্রেন টি সরাসরি পন্ডিচেরিতে আসে, ট্রেনটি শুধুমাত্র রবিবার হাওড়া ছেড়ে আসে। অন্যথায় হাওড়া থেকে ভেল্লুপুরম জংশনে (VM) সপ্তাহে ১২৬৬৩, ১২৬৬৫ দুটি ট্রেন আসে।    তবে সরাসরি ট্রেন বা প্লেন পাবেন না ভাল হয় কলকাতা থেকে চেন্নাই এসে বাসে পন্ডিচেরিতে চলে আসুন। চেন্নাই থেকে পন্ডিচেরী বাসে ৩-৪ ঘন্টা সময় লাগে।  পথে মহাবলীপুরম ঘুরে নিতে পারেন।  
  •  যদি ব্যাঙ্গালোরে থেকে আসতে চান তবে বাস বা ট্রেন পেয়ে যাবেন। গাড়িতেও পৌঁছে যেতে পারেন 

    • Show location in Google map.

  • রাস্তাও কি কি দেখাবার আছে , if traveler is visiting by private car or taxi this information will be helpful.
  • কোথায় কোথায় ঘোরা যায়cover all the places with as much as information possible
    • How can travel/Way to travel
    • Estimated cost of travel
    • Duration to cover the place
    • Timing for visitor, opening and closing, if any
    • Peak season.
  • কোথায় থাকবেন .
  • কোথায় খাবেন .
  • বিশেষ কি করবার আছে .
  • Closing note
  • Add photos, videos and reference where-ever is possible.
  • Use relevant and good label which helps to categorized post better and increase search capability on Google, so more people can read it.

কুর্গ ভ্রমণ গাইড

কুর্গ দক্ষিণ ভারতের অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্র। এটি কর্ণাটক রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে পশ্চিমঘাট পর্বতে অবস্থিত। পাহাড়, জঙ্গল, ট্রেকিং এবং ...