Wednesday, 25 February 2026

ফুলের স্বর্গরাজ্য “ভার্সে” একদিন

 ফুলের স্বর্গরাজ্য  “ভার্সে” একদিন 

—-------------------------------------- 

রবিবার , ১১ এপ্রিল ২০২১

করোনার লক-ডাউনে  দমবন্ধ হয়ে বেশ কয়েক মাসে  একেবারে হাপিয়ে উঠেছিলাম। সেই জন্য লক-ডাউন উঠতেই বেরিয়ে পড়লাম মন ভালো করতে পাহাড়ের উদ্দেশ্যে। একবার উত্তর বঙ্গ গিয়ে কোথাও একটা গেলেই হলো, আসল লক্ষ্য তো ছুটি কাটানো ফলে যে কোনো একটা জায়গায় গেলেই হল। 

সেই মতো তৎকালে উত্তর বঙ্গের টিকিট কেটে দুই জন অর্থাৎ আমি ও গৌতম দা ট্রেনে চড়ে পড়লাম। পদাতিক এক্সপ্রেস, রাত্রি সাড়ে ৯ টা নাগাদ ছেড়ে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছাবে সকাল ৯ টায়।  ট্রেনে উঠে ঠিক করলাম এবার একটু অফবিট জায়গায় যাওয়া যাক।  সাথে গতমাসের ভ্রমন পত্রিকা ছিল আর সেটা থেকে জানলাম পশ্চিম সিকিমের ভার্স নামক একটা জায়গায় এই সময় প্রচুর ফুল ফুটবে। তার সাথে থাকবে একটি এক প্রকার সোজা ট্রেক। ব্যাস কোথায় যাবো ঠিক হয়ে গেলো। কিভাবে যেতে হবে, কোথায় থাকতে হবে সেসব তথ্যও পেলাম সেই গাইড থেকে। 

সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১

গতকাল খুব একটা ভাল ঘুম হয়নি।  ট্রেন একটু লেট করে পৌছালো ১০ টা নাগাদ। 

নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছে প্রথমে আমরা বাসের খোঁজ করলাম, দিনে মাত্র দুটো বাস চলে। সকালেরটা চলে গিয়েছে আর পরের টা বিকালে। অগত্যা ভরসা শেয়ার গাড়ি। আমরা সিট পেলাম মাঝের লাইনে। প্রায় ৪ ঘণ্টা এভাবে চলার পর পৌঁছলাম জোরথাং নামক একটা জায়গায়। সেখান থেকে গাড়ি বদল করে যেতে হবে।  এবারে সিট আরও খারাপ, একেবারে পেছনের লাইনে মাঝের একটা সিট। ঘুরতে গেলে এমন অনেক কিছুই মানিয়ে নিতে হয়, ফলে এসব নিয়ে ভাবলে চলে না।  এবারে রাস্তা আগের থেকে আলাদা। গাড়ি ওপরে উঠছে তো উঠছেই। ওপরে ওঠা যেন শেষই হয় না। কতগুলো পাহাড় যে এভাবে পার হলাম তার গুন্তি নেই। জোরথাং এ বেশ গরম লাগছিল আর এখন বেশ শীত লাগছে। প্রায় ৩ টা নাগাদ আমাদের গাড়ি সোমবাড়িয়া নামক একটা বাজারে থামল। ড্রাইভার জানালো এই পথের এটাই শেষ বাজার, এর পর ছোটোখাটো দোকান থাকলেও আর কোনো বাজার নেই, সেই জন্য কিছু কিনবার থাকলে যেন কিনে নি।  

সোমবাড়িয়া বেশ বড় বাজার আর প্রায় পুরোটাই রাস্তার পাশ দিয়ে। এখানে হরেক জিনিস পাওয়া যাচ্ছে। বাজারের ভেতরেই একটা স্টেজ এ কিছু একটা খেলা চলছে।  নেপালি ভাষায় মাইকে কিছু বলছে আর অনেক মানুষ সেই স্টেজ এর সামনে কাগজ ও পেন নিয়ে বসে।নেপালী আমি বুঝি না, তবে ভাষা না বুঝলেও হাবেভাবে বুঝলাম যে এটা এক ধরনের লটারি। আমি ও গৌতম’দা কিছুক্ষন ঘুরে লোকাল দোকান থেকে চা খেয়ে আবার গাড়িতে উঠে বসলাম। ইতিমধ্যে বাইরে বেশ ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে। আমাদের গাড়ির বিশ্রাম ছিল ১০ মিনিটের, অথচ প্রায় আধাঘন্টা পেরিয়ে গেলেও সহযাত্রীদের ফিরবার কোনও খবর নেই। প্রায় ৪৫ মিনিট বাদে একে একে তারা ফিরতে শুরু করলেন। সকলের হাতে বাজারের ব্যাগ, সম্ভবত সপ্তাহের বাজার  করে ফিরেছে।  আমাদের ড্রাইভার ফিরলেন সবচেয়ে পরে, প্রায় ৫০ মিনিট কাটিয়ে। ড্রাইভার আনন্দের সঙ্গে জানিয়ে দিল সে দুই দান জুয়ো খেলেছে ও জিতেছে, তাই একটু দেরি। সব দেখে বুঝলাম যে এটা আসলে স্থানীয় হাট, সোমবারে বসে আর এর থেকেই জায়গার নাম সোমবাড়িয়া। 

আবার শুরু হল আমাদের যাত্রা। সোমবাড়িয়া এর আশেপাশেও একটু সমতল ছিল কিন্তু এবারে একেবারে খাঁড়াই রাস্তা। মনে হচ্চিল আর কত উপরে উঠব আমরা? এত যেন স্বর্গের কাছে চলে এলাম। ইতিমধ্যেই শীত বেশ জাকিয়ে পড়েছে। ব্যাগের থেকে গরম জ্যাকেট, মাফলার এসব ইতিমধ্যেই গায়ে চাপিয়েও কাঁপছি। পাহাড়ের চূড়াতে মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। রাস্তার পাশে দেখতে পেলাম লাল - হলুদ রডোডেনড্রন ফুল ফুটে রয়েছে। গাড়ি চললো আরো প্রায় এক ঘন্টা।  

প্রায় পৌনে ৫ টা নাগাদ এক যাত্রী সামনের সিট থেকে নেমে গেলে আমি সেখানে গিয়ে বসলে একটু যেন আরাম পেলাম। এখানে ঠান্ডা হাওয়া কম আর ইঞ্জিনের গরম বেশ আরামদায়ক। গাড়ির ড্রাইভার জানতে চাইলেন আমরা কোথায় থাকব। আমাদের হোমস্টে এর নাম জানতাম, সেটা বলায় তিনি একটু পরে একটা জায়গায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেখিয়ে দিলেন সামনের একটা বাড়ি। আমরা গাড়ি থেকে নামলাম আর গাড়ির থেকে নামতেই  ঠান্ডা যেন জ্যাকেট ফুরে ভেতরের হাড় যেন জমিয়ে দিল। 

আমাদের হোমস্টের নাম রিনচেন। বাড়িটি আংশিক কাঠের ও ইটের তৈরী।  বুঝলাম পুরোনো কাঠের বাড়ি আস্তে আস্তে বদলে ইটের তৈরি হচ্ছে। পরে জেনেছিলাম এসব ইট আসে শিলিগুড়ি থেকে আর এতটা পথ আসতে গিয়ে তার দাম খুবই বেড়ে যায়। 

আমাদের ঘর দেখিয়ে দিলেন মধ্য বয়সী এক ব্যক্তি। একটু পরেই একটি মেয়ে চা ও পেঁয়াজি জাতীয় একটা ভাজি নিয়ে এলো। তার বয়স সম্ভবত ২৩/২৪ হবে। পাহাড়ি মেয়েরা যেমন ফর্সা হয় ইনিও  তেমনই ফর্সা ও ছিপছিপে। কথায় কথায় জানলাম তার নাম রিনচেন, আর আমাদের হোমস্টে এর নামও ও রিনচেন! জিজ্ঞাসা করলে বলল এই হোমস্টে তারই নামে। তবে বাড়িটি তার দাদা’র।  দাদাই বোনকে ভালোবেসে বোনার নামেই এই হোমস্টে করেছে। 

চা পান শেষ হলে আমাদের রিনচেন তাদের গ্রাম ঘুরে দেখবার প্রস্তাব দিল। পাঁচ মিনিটের মধ্যে তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়তাম রিনচেন এর সাথে তাদের গ্রাম ঘুরে দেখতে। গ্রামটির নাম ওখরে। এই গ্রামে একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, একটি স্কুল, দুই একটি দোকান, ও সম্ভবত ৫০/৬০ টি পরিবার বাস করে। এক জায়গা থেকে  দূরে কয়েকটি পাহাড়ের দিকে দেখিয়ে বলল ওই পাহাড়গুলি পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে। ও তার মানে আমরা ঘুরেফিরে আবার পশ্চিমবঙ্গের সীমানার কাছেই রয়েছি। এর পর আমাদের নিয়ে চলল গ্রামের উপরের দিকে , সেখানে রয়েছে গ্রামের স্কুলটি। এর স্কুলে রিনচেন নিজেও পড়েছে আর  বর্তমানে সেই সেখানের অঙ্কের শিক্ষক। রিনচেন এর কথা বলবার ধরন খুবই মিষ্টি ও মার্জিত। শিক্ষার প্রতিফলন রয়েছে তার আচার ও ব্যবহারে। আর পাঁচটা সাধারণ গ্রামের মেয়ের মতো মোটেই নয়। কিছুক্ষনের মধ্যেই সন্ধ্যা নামলো। পাহাড়ে সন্ধ্যা কেমন যেন ঝুপ করে নাম, ঠিক সমতলের মতো নয়। রিনচেন উপরের দিকে দেখিয়ে বললো ওখানে রয়েছে একটি মনস্ট্রী। অন্ধকার হয়ে গিয়েছে ফলে সেখানে এখন আর যাওয়া যাবে না। আমাদের ওখরে গ্রাম ভ্রমণ আপাতত মুলতুবি রেখে আবার হোমস্টে ফিরবার রাস্তা ধরলাম। ফিরবার পথে এক জায়গা কুয়াশা এতো গাঢ় যে পাঁচ হাত দূরের কিছু দেখাই কঠিন। রিনচেন রাস্তা চেনে তাই আমাদের নিয়ে এলো নইলে এমন অন্ধকার ও কুয়াশার কারণে আমরা ফিরতেই পারতাম না। 

রাত্রের খাবার এলো প্রায় ৯ টা নাগাদ। পাহাড়ে রাত্রি ৯ টাই যেন মধ্য রাত্রি। খাবারে ভাত, ডাল, একটা ভাজি,রুটি একটা সবজি ও মুরগির মাংস পরিবেশন করলো। খাবার বেশ ভাল। সারাদিনে ভাল ভাবে খাবার খাওয়া হয়নি যার জন্য এই খাবার মনে হলো যেন অমৃত। খাবার খেতে খেতে রিনচেনদের বাড়ির ও গ্রামের গল্প শুনছিলাম। এটা জেনে বড়ই অবাক হলাম যে রিনচেনরা কখনও কলকাতার মতো বড় শহর দেখেনি। এদের এখানে কলকাতা থেকে মানুষ ঘুরতে আসে তাদের থেকে কলকাতার গল্প শুনেছে। শুনেছে খুব ভিড়, অনেক গাড়ি , অনেক উঁচু বাড়ি। তবে এনারা একবার শিলিগুড়ি গিয়েছিলেন, খুব ভিড়, গাড়ি, শব্দ এসব সহ্য হয়নি। পরের দিনই শিলিগুড়ি  শহর ছেড়ে আবার গ্রামে ফিরে এসেছিল। ডিশ টিভি আসবার আগে এখানে মানুষের আমোদ আনন্দ করবার মতো প্রায় তেমন কিছুই ছিলো না। একটা সিনেমা হল রয়েছে সেই সোমবাড়িয়ায় আর কাছের কলেজও সেখানেই। কিন্তু সেও তো অনেক রাস্তা। বাসে যেতে প্রায় এক ঘণ্টা তারপর বাসের সংখ্যায়ও খুবই কম। যে  কারণে অনেকেই এখানে ১২ ক্লাসের পর আর পড়াশোন করে না। রিনচেন সেখানের একটা কলেজ থেকেই গ্রাডুয়েশন করেছে। এপ্রিল মাসের ঠান্ডায় আমরা কাবু হয়ে পড়ছি দেখে হেসে জানাল এখন তো ঠান্ডাই নেই। শীত পড়ে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত। গত বছর নভেম্বরের মাঝেই প্রথম তুষার পাত হয়েছিল। সেসব  সময় খুবই ঠান্ডা থাকে। রাস্তা বরফের ফলে আটকে যায়। গাড়ি চলা বন্ধ হয়ে পড়ে। খাবার ওষুধ নিচে শহর থেকে আসতে পারে না। তখন এনাদের নিজেদের জমানো খাবার যা মূলত আটা, ভুট্টা, শুকর ও গরুর মাংস আর তার সাথে সাধারণ চাল ডাল জাতীয় খাবার খায়। এই সময় জল ঠান্ডায় জমে যায় বলে জলের সমস্যা মারাত্মক হয়ে পড়ে। তবে সব চেয়ে অসুবিধা হয় যদি এই সময় কেউ অসুস্থ হয়ে যায় ও তাঁকে নিচে বড় শহরে নিয়ে যাবার প্রয়োজন হয়। কথাগুলো শুনতে শুনতে মনে হচ্ছিল আমরা যারা সমতলে বড় শহরে থাকি তার কতই না আরামে থাকি সেটা এনাদের অসুবিধার কথা জেনে বুঝতে পারলাম। অথচ সেসব জীবন নিয়েই আমাদের অভিযোগের শেষ নেই! হয়তো আরামে থাকতে থাকতে অসুবিধা যে কি জিনিস সেই বোধটাই আমাদের নষ্ট হয়ে যায়।   


মঙ্গলবার , ১৩ এপ্রিল ২০২১

পরের দিন বেশ ভোরে ঘুম ভেঙে গেলো, রাত্রে খুব ভাল ঘুম হয়নি। খুবই ঠান্ডা লাগছিল। রাত্রে হয়ত শূন্যের নিচে চলে গিয়েছিল তাপমাত্রা। সকালে রিনচেন চা দেবার সময় জানাল গতকাল রাত্রে সম্ভবত লেপার্ড এসেছিল। এখানে মাঝে মাঝেই লেপার্ড চলে আসে। আর সে এও জানাল এই কারণেই সন্ধ্যার পর আমাদের গ্রামের মনেস্ট্রি নিয়ে যায়নি। তবে খুব ভোরে গৌতমদা একাই মনেস্ট্রি ঘুরে এসেছে। গৌতমদা বরাবরই খুব ভরে ঘুম থেকে ওঠে এখানেও সেই অভ্যাস। 

আজ আমরা রডোডেনড্রন ফুলের স্বর্গ ভার্সে দেখতে যাব। রিনচেনদের গ্রাম থেকে সেখানে যাবার জন্য শেয়ার গাড়ি চলে না, প্রাইভেট গাড়ি বুক করতে হয়। আমরা গতকাল রাত্রেই রিনচেনদের মাধ্যমে একটা ছোট গাড়ি ও গাইড বুক করে নিয়েছিলাম। সকালের খাবার খেতে খেতেই তারা চলে এলো। রিনচেনদের হোমস্টে থেকে আমাদের যেতে হবে হিলে নামক একটা জায়গায়। মোট দূরত্ব ১২/১৩ কিলিমিটার মতো। জায়গাটা গভীর জঙ্গলের মধ্যে। 

চটপট সকালের খাবার খেয়ে আমরা বেরিয়ে পড়লাম। একটু পরেই জঙ্গলের রাস্তা শুরু হলো। জঙ্গলের মধ্যে দেখলাম রংবেরঙের অতি সুন্দর এক বনমোরগ, আমাদের গাড়ির সামনে দিয়ে ছুটে চলে গেল। আরেকটু যাবার পরই যেখানে পাহাড়ের ছায়া পড়ছে সেখানে দেখতে পেলাম জমে থাকা বরফ। আজও বরফ রয়েছে এখানে! বরফের কাছে যাবার কথা বলতে আমাদের গাইড বারণ করলো। সে জানাল এই সব জায়গায় অনেক জংলী জানোয়ার রয়েছে তাই তারা কেউ এখানে খুব দরকার না হলে গাড়ি থেকে নামেনা। কিছুক্ষন পরে আমরা পৌঁছলাম হিলে। 

হিলে জঙ্গলের মধ্যে একটা ছোট জায়গা। যেখানে রয়েছে দুই-তিনটি হোটেল, চা বা ম্যাগি জাতীয় খাবারের দোকান ও ভার্সে যাবার টিকিট কাউন্টার। এখানে কেউ স্থায়ী ভাবে থাকে না। সকালে সবাই আসে ভার্স ঘুরে আবার বিকালের আগে ফিরে যায়। তবে হোটেলগুলোতে মানুষ থাকে। কিন্তু গরমের সময় বাদে সেভাবে ভিড় হয়না। 

নিমা আমাদের এই সফরের গাইড। রোগা চেহেরার ছোট আকৃতির নিমার প্রধান জীবিকা টুরিস্ট গাইড। সারা বছর টুরিস্ট দের গাইড করেই তার দিন চলে।  নিমা আমাদের জানালো টিকিট কাউন্টার থেকে আমাদের দুই জনের টিকিট নিতে কারণ এখানে গাইডদের টিকিট লাগে না। 


ভার্সের টিকিট কেটে আমাদের যাত্রা শুরু।  প্রায় ৪ কিলোমিটার হেটে যেতে হবে এই পাহাড়ি জঙ্গল পথে তবেই দেখা মিলবে রডোডেনড্রন ফুলের স্বর্গ।  এমন একটা জায়গা যেখানে চারি দিক চেয়ে রয়েছে লাল হলুদ আরও অনেক রঙের ফুলে। গেট পার হয়ে একটু দূর এসেই দেখা পেলাম প্রথম গুরুঞ্চ বা রডোডেনড্রন ফুলের। জঙ্গলের মধ্যে চারিদিক একেবারে নিস্তব্দ, রয়েছে শুধু হাওয়ার জন্য পাতায় পাতায় ঘষা লাগবার শব্দ আর তারসাথে পাখিদের মিষ্টি সুরের ডাক।  প্রথমে কিছুটা সিঁড়ি ভেঙে উঠে তারপর মরম বিছানো রাস্তা। রাস্তা সরু তার একদিকে পাহাড়ের ঢাল অন্য দিকে গভীর গিরিখাত।  জায়গায় জায়গায় জঙ্গল খুবই গভীর,  যেন সূর্যের আলোও এখানে ঢুকতে পারে না।  এই জঙ্গলে বিভিন্ন ধরণের গাছ রয়েছে। তারমধ্যে পাইন, সেগুন, রডোডেনড্রন ও বাঁশ এর বন। রাস্তার ওপর দিয়েই বয়ে চলেছে বরফগলা ছোট ঝর্ণার জল আবার কোথাও মরা গাছ ভেঙে রাস্তার ওপর পড়ে রয়েছে।  পাইন বনের মধ্যে কুয়াশা যেন খেলে জায়গাটা যেন মায়াবী করে তুলেছে। 


আমাদের গাইড হটাৎ রাস্তা থেকে একটা ফল তুলে আমাদের দেখিয়ে বলল, এই ফল ভাল্লুরকের খুবই পছন্দ। আর একটা দেখে মনে হচ্ছে ভাল্লুকই খেয়েছে। আশেপাশে এই একই ফল অনেকগুলো পড়েছিল। ভাল্লুক ফল খেয়েছে মানে হতে তো পারে সে এখনো আশেপাশেই রয়েছে।  বিষয়টা ভেবেই বেশ ভয় ভয় করে উঠলো। আমাদের গাইড আস্বস্ত করে বললো যে না ভাল্লুক থাকলেও দিনের বেলায় ভয় নেই।  আর আরো জানালো এর মধ্যে হরিণ-লেপার্ড এর মতো জানোয়ারও থাকে। তবে এই জঙ্গলের সব চেয়ে আকর্ষণীয় হলো রেড পান্ডা। রেড পান্ডা বিলুপ্তপ্রায় এক প্রাণী তবে এখনও এই জঙ্গলে মাঝে মাঝে দেখা যায়। নিমা, সে নিজেও কয়েকবার রেড পান্ডা দেখেছে, বাঁশের পাতা রেড পান্ডার খুবই পছন্দ আর সেটা খেতেই পান্ডারা আসে এখানে। 


জঙ্গলের মধ্যে হেঁটে চলেছি, কখনও খাড়াই কখনও উৎরাই। আবার মাঝে মাঝে কুয়াশ এসে আমাদের চলার পথ ঢেকে দিচ্ছে। এভাবে কিছুক্ষন চলবার পরে প্রথম একটা বসে বিশ্রামের জায়গা দেখলাম। পথ চলার শুরুতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল তবে কিছুক্ষন চলবার পরে বেশ অভ্যাস হয়ে এলো। তবু বসবার জায়গা দেখে একটু আরাম করে বসে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিলাম। এর মধ্যে কতকগুলি মানুষ মাথার ভারী বোঝা নিয়ে এসে দাঁড়াল। লোকাল লোক, এই জঙ্গলে মুটের কাজ করে। ওপরে একটা হোটেল রয়েছে সেখানে রাত্রিবাস করা যায়। এই লোকগুলি সেখানের জন্য মালপত্র মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছে। কথায় কথায় জানালো এক একটি বোঝার ওজন ৫০ কিলোর বেশি। শুনে অবাক হলাম এটা ভেবে যে যেখানে আমরা শুধু হেঁটে উঠতেই হাপিয়ে যাচ্ছি সেখানে এরা এমন বোঝা নিয়ে কিভাবে যাচ্ছে! এখানে যাবার মতো এই একটাই রাস্তা তাও কোথাও উঁচু কোথাও নিচু কোথাও আবার পাথর কেটে সিড়ি আবার কোথায় গর্ত, রাস্তাটাও খুব বেশি হলে ৪ - ফুট চওড়া আবার কোথাও কোথাও তারও কম। ফলে এখানে গাড়ি চলবার কোনও উপায় নেই। ফলে এভাবেই মাল পত্র নিয়ে যাওয়া একমাত্র উপায়। এভাবেই বালি সিমেন্ট রড এসব নিয়ে গিয়ে হোটেল তৈরি হয়েছে, ভেবেই আশ্চর্য হলাম!


কিছুক্ষন বিশ্রামের পর আবার পথ চলা শুরু। রাস্তা তেমনই। একজায়গায় দাড়িয়ে আমাদের গাইড এক দিকে ইঙ্গিত করে বলল এখানের থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে। কিন্তু আজ সেই সৌভাগ্য ছিলো না। আরেকটু পরে রাস্তার থেকে একটু উপরে দেখতে পেলাম মহাদেবের একটা ছোট মন্দির। সেখানে আশেপাশে কেউ না থাকলেও সেখানে তখনও ধুপ জ্বলছিল। হয়তো কেউ একটু আগেই এখানে পুজো দিয়েছে। এই পথেই দেখা পেলাম কলকাতার একটি পরিবারের সাথে। তারা উপরের হোটেল বুক করেছিল কিন্তু সেখানে পৌঁছে কাউকে না পেয়ে ফিরে আসছে। নেটওয়ার্ক নেই ফলে সেখানের থেকে ফোনেও যোগাযোগ করতে পারেনি। মোবাইল চেক করে দেখলাম আমাদের নেটওয়ার্ক এরও একই অবস্থা। নিমা বলল বিএসএনএল বাদে আর করো নেটওয়ার্ক এখানে পাবে না। 


না রাস্তায় আর কোথাও আমাদের বিশ্রাম নেবার প্রয়োজন হলোনা। আমরা একেবারে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার হেঁটে পৌঁছে গেলাম ফুলের স্বর্গে ভার্সে । জায়গাটা পাহাড়ের একেবারে উপরে আর জায়গাটা বেশ সমতল। রাস্তায় যে জঙ্গল ছিলো এখানে সেটা নেই ফলে পরিস্কার আকাশ দেখা যাচ্ছে। এতক্ষণ যে জঙ্গলের রাস্তায় এলাম সেখানে আকাশ ঢেকে দিয়েছিল গাছের পাতা যা এখানে নেই। চারিদিক বিভিন্ন ধরনের রডোডেনড্রন বা  গুরুঞ্চ ফুলের গাছ। নিমা বলল এখানে প্রায় ১২/১৪ ধরনের গুরুঞ্চ ফুল রয়েছে। কোনটা লাল কোনটা হলুদ আবার কোনটা বেগুনি বা আর কোনও রঙের। 


আমাদের ভাগ্য খুব একটা সুপ্রসন্ন ছিল না। এতটা পথ এসে আমাদের কিছুটা নিরাশ হতে হলো।  নিমা জানালো এখানে দুই তিন আগে এসেও সে অনেক ফুল দেখেছে। কিন্তু দুই দিন আগের বৃষ্টি হবার ফলে সেসব ফুল ঝরে গিয়েছে। গাছে নিচে সেসব ফুলের পাপড়ি এখনও দেখা যাচ্ছে। আর গাছে রয়েছে প্রচুর ফুলের কুড়ি যা ফুটতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ লাগবে। তবে একেবারে ফুল নেই তাও নয়।  অল্প কিছু ফুল আবার ফুটেছে কিন্তু ভার্সের যে ছবি দেখেছি যে লাল ফুল ফুটে একেবারে জঙ্গলে আগুন লেগে যাবার রূপ সেটা একেবারেই নেই এখন।  


জায়গাটা এতই নির্জন যে যেন নিজেদের নিশ্বাসের শব্দও যেন শুনতে পারছিলাম।  আশেপাশের থেকে ভেসে আসছিলো বিভিন্ন ধরনের পাখির সুমিষ্ট ডাক। কোনোটা দোয়েলের মতো পাখির আবার কোনোটা আচেনা কোনও সুর। এখানের পাখিগুলি বেশ মোটাসোটা গোলগাল চেহারার হয়তো ঠান্ডার কারণের। 


এখানে খাবারের কোনো দোকানের কথা ভাবাই অসম্ভব। যে কারণে হোমস্টে থেকে আমাদের দুপুরের খাবার বানিয়ে দিয়েছিল যেটা আমরা এখানে বসে খেলাম। এতো সুন্দর এক পরিবেশে উষ্ণ চায়ের সাথে আলুপরোটা একেবারে নৈসর্গিক খাবার। বেশ কিছুক্ষন বসে তারপর সামনের দিকে আবার চলতে শুরু করলাম। আমাদের গাইড, নিমা বললো সামনে ফুল পাওয়া যাবে। আর সেই লোভেই চললাম। নিমা আমাদের বিভিন্ন ধরণের গুরুঞ্চ বা রডোডেনড্রন এর গাছ চিনিয়ে দিলো। জানলাম এখানে অনেক ধরণের এমন ফুলের গাছ রয়েছে যার কোনটা ছোট ঝোপের মতো তো কোনটা একটু বড়।  ভেবে আশ্চর্য লাগলো যে এখানে এমন পাহাড় এর মাথায় কে এতো সুন্দর করে সব ফুলের গাছ লাগিয়েছে।  সত্যি প্রকৃতি কতই না  আশ্চর্যের! এই ফুলের বাগান, যেভাবে এখানে ফুলের গাছগুলি রয়েছে তাতে জঙ্গল না বলে বাগানই বলা চলে।  সেই বাগান অনেকদূর পর্যন্ত বৃস্তিত। এই গাছগুলির মধ্যে থেকে পায়ে হাটা পথ চলে গিয়েছে সামনের দিকে। আমরা চললাম জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে সেই পথ ধরে।  প্রায় আরো এক কিলোমিটার যাবার পর একটা জায়গা বেশ ফাঁকা।  সেখানে রয়েছে একটি হোটেল, নাম গুরুজ-কুঞ্জ। জায়গার সাথে হোটেল এর নামের একেবারে উপযুক্ত। 

  

হোটেলটি বেশ সুন্দর।  সামনে লন এর মতো একটা জায়গা, অনেক ঘাস হয়ে আছে সেখানে।  আশ্চর্যের যে এই হোটেল তৈরির সব জিনিস এখানে মানুষ মাথায় করে নিয়ে এসেছে এই সম্পূর্ণ ট্রেক এর রাস্তা দিয়ে! এমন কি এখানে থাকলে তার সব খাবার সব কিছুই আসে ওই রাস্তা দিয়ে। নিমা জানালো এখানে রাত্রে অনেক সময় জংলী জানোয়ার চলে আসে। তবে সে যাই আসুক আমি একবার কল্পনার চেস্ট করলাম এখানে এক জ্যোৎস্না আলোকিত রাত্রিতে বসে, এই জঙ্গলের রূপ উপভোগ করতে কতই না ভাল লাগবে। অথবা এখানে এক সূর্যোদ্বয়, সত্যি এসব যেমন একেবারে কোনো স্বর্গীয় অনুভূতি। 


বেলা প্রায় চারটে,  এবার ফিরতে হবে।  অনেকটা রাস্তা হেঁটে হিলে পৌঁছে তারপর গাড়ি চড়ে হোমস্টে ফেরা। পাহাড়ি জঙ্গলে অন্ধকার নাম খুব দ্রুত। আসবার সময় রাস্তায় দুই চার জনের সাথে দেখা হয়েছিল কিন্তু ফিরবার সময় কাউকে পেলাম না। অন্ধকার না হলেও বিকাল থেকে ঠান্ডা, কুয়াশা আর হাওয়া - এসব মিলিয়ে ফিরবার সময় যেন এক ভয়ঙ্কর পরিবেশ হয়ে উঠলো এই জঙ্গলের রাস্তা।  আমরা যখন গাড়ির কাছে ফিরলাম তখন প্রায় অন্ধকার।  যদিও সময় মাত্র পাঁচ’টার একটু বেশি কিন্তু পাহাড়ি জায়গায় এর মধ্যেই দিনের আলো ফুরিয়ে গিয়েছে। ড্রাইভার মৃদু ধমক দিলো দেরি করবার জন্য। দেখলাম  হিলে’তে যে কয়েকটি দোকান ছিল তারা সবাই দোকান বন্ধ করে ইতিমধ্যেই ফিরে গিয়েছে।  শুধু ড্রাইভার গাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো। ড্রাইভার জঙ্গলের রাস্তায় আর একটাও কথা বললো না, জঙ্গলের পথে বেশ জোরে গাড়ি হাঁকিয়ে দ্রুত জঙ্গল পার করলো।  জঙ্গল পেরিয়ে আসবার পরে জানালো ওই জঙ্গলে রয়েছে প্রচুর জংলী জানোয়ার যা সন্ধ্যার পরে জেগে ওঠে। আমরা যে রাস্তা দিয়ে আমরা গিয়েছি এমনকি হিলের গাড়ি রাখার জায়গা বা টিকিট কাউন্টার এর আশেপাশেও ওরা চলে আসে। আমরা এতটা দেরি করে খুবই ভুল করেছি। সন্ধ্যার একটু পরে আমরা রিনচেনদের হোমস্টে তে পৌঁছে গেলাম। 

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১

গতকালের সারা দিনের অনেকটা পাহাড়ি পথচলা আমাদের খুবই ক্লান্ত করে দিয়েছিলো। রাত্রে তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পড়েছিলাম আর উঠেছি প্রায় সকাল ৮ টা নাগাদ।  ইতিমধ্যেই সব শেয়ার গাড়ি ওখরে থেকে চলে গিয়েছে জোড়থাং এর পথে। শেষ উপায় সকাল ৯ টার বাস নইলে এবার হয় প্রাইভেট গাড়ি বুক করতে হবে ।  পকেটের চাপ কমাতে আমরা বাসেই চড়ে বসলাম আর চললাম সেই প্রথম দিনের রাস্তা ধরে, প্রথমে জোড়থাং তার পর রুট বদলে দার্জিলিং হয়ে মিরিকের এর দিকে।  সে অবশ্য আলাদা গল্প, সেটা না হয় আরো কোনোদিন বলবো।  


————— 

মুক্তবাক পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছিল এই ভ্রমণ গল্পটি, ডিসেম্বর ২০২৫ সংখ্যা। 

Sunday, 11 January 2026

কুর্গ ভ্রমণ গাইড | Coorg Travel Guide

অ্যাডভেঞ্চার ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে দক্ষিণ ভারতের কুর্গ অত্যন্ত জনপ্রিয় গন্তব্যস্থান। এটি কর্ণাটক রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে, পশ্চিমঘাট পর্বতে অবস্থিত। পাহাড়, জঙ্গল, ট্রেকিং এবং জলক্রীড়া উপভোগ করার জন্য এটি সেরা জায়গা। কুর্গের নিকটতম ছোট শহর হল মাদিকেরি।



  • সংক্ষেপে সারসংক্ষেপ :
    • ভ্রমণের ধরণ: অ্যাডভেঞ্চার/প্রকৃতি।
    • ভ্রমণের সেরা সময় : বর্ষাকালে এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে পূর্ণ সবুজ দৃশ্য দেখা যাবে।
    • অক্টোবর থেকে মার্চ: এটি ভ্রমণের সেরা সময়। আবহাওয়া খুব মনোরম থাকে।

    • বর্ষাকাল (জুন থেকে সেপ্টেম্বর): যারা জলপ্রপাত এবং অতি সবুজ প্রকৃতি ভালোবাসেন, তাদের জন্য উপযুক্ত। তবে এ সময় ট্রেকিং কিছুটা কঠিন হতে পারে।

            তবে কুর্গ বছরের যেকোনো সময় ভ্রমণের জন্য একটি জায়গা।

    • সময় কাটানোর সময়: ২-৩ দিন।
    • নিকটতম প্রধান শহর: মহীশূর
    • ভ্রমণের সর্বোত্তম মাধ্যম: ব্যক্তিগত গাড়ি, ব্যাঙ্গালোর, মহীশূর বা ম্যাঙ্গালোর থেকে বাস।

  • কিভাবে পৌঁছাবেন
কুর্গের নিজস্ব কোনো এয়ারপোর্ট বা রেল স্টেশন নেই। কূর্গের নিকটতম বড় শহর বেঙ্গালুরু  যা মাদিকেরি থেকে ২৬০ কিমি দূরে অথবা  মহীশূর যা ১২০ কিমি দূরে সেখানে ট্রেন বা প্লেনে এসে গাড়িতে বা বাসে পৌঁছে যেতে পারেন কুর্গ। বেঙ্গালুরু থেকে বাসে বা ট্যাক্সিতে ৫-৬ ঘণ্টা সময়  ও মহীশূর থেকে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা মতো সময় লাগবে।

 

  • কুর্গে দর্শনীয়  স্থানগুলির তালিকা এবং মাদিকেরি থেকে দূরত্ব নিম্নরূপ :
    • ১. রাজা’র সিট (Raja's Seat):  

      কুর্গের রাজারা একসময় তাঁদের রানীদের নিয়ে এখানে বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করতেন বলেই এই জায়গার নাম হয়েছে 'রাজা’স সিট'বা রাজার আসন। এটি পাহাড়ের ওপর একটি উঁচুতে অবস্থিত জায়গা যেখান থেকে নিচু উপত্যকা এবং আঁকাবাঁকা রাস্তার সুন্দর প্যানোরামিক ভিউ দেখা যায়।

      এর সাথে এখানে সন্ধ্যায় চমৎকার মিউজিক্যাল ফাউন্টেন বা সঙ্গীতময় ঝরনার প্রদর্শনী হয়, যা পর্যটকদের কাছে খুব জনপ্রিয়। বাচ্চাদের জন্য এখানে একটি ছোট টয় ট্রেন আছে ও তার সাথে রয়েছে আরো কিছু রাইড এর ব্যবস্থা। সন্ধ্যার আগে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে আসা মেঘ এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য ক্যামেরা-বন্দী  করবার জন্য কুর্গের সেরা জায়গা এটি। জায়গাটি  প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে ও প্রবেশমূল্য জনপ্রতি মাত্র ২০ টাকা।
       




    • অ্যাবে ফলস (Abbey Falls): 
      • এই জলপ্রপাতটি মাদিকেরি শহর থেকে মাত্র ৮ কিমি দূরে কফি এবং মশলা বাগানের ভেতরে এটি অবস্থিত। প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতা থেকে এই জলপ্রপাতটি পাহাড়ের গা বেয়ে নিচে নেমে আসছে যা দেখতে অত্যন্ত মনোরম। বর্ষার ঠিক পরে অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে গেলে ঝরনার পূর্ণ রূপ দেখা যায়।

        প্রতিদিন সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০ পর্যন্ত এই ঝর্ণাটি খোলা থাকে।জনপ্রতি ২৫ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে এখানে যেতে হয় আর গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য আলাদা চার্জ লাগে। টিকিট কেটে ঝর্ণার প্রধান গেট থেকে ঝরনা পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রায় ১৫-২০ মিনিট নিচের দিকে নামতে হয়। বয়স্ক বা হাঁটুর সমস্যা থাকলে এখানে পৌঁছাতে কষ্ট হবে। ঝরনার নিচে জলে নামা বা সাঁতার কাটা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।  



    • গোল্ডেন টেম্পল (Namdroling Monastery):  

      মহীশূর শহর থেকে কুর্গে যাবার পথে, মহীশুর শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ ভারতের একমাত্র সোনার মন্দির বা বৌদ্ধ সোনার মনাস্ট্রিটি অবস্থিত। মঠটির নাম নামদ্রোলিং নিংমাপা। মঠটি বিশ্বের তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের নিংমা বংশের বৃহত্তম শিক্ষাকেন্দ্র। এই মঠটিতে পাঁচ হাজারেরও বেশি সন্ন্যাসী এবং সন্ন্যাসীনি থাকে যাদের লামা বলা হয়। এখানে ইয়েশে ওডসাল শেরাব রালড্রি লিং নামে একটি জুনিয়র হাই স্কুল, একটি ধর্মীয় কলেজ এবং একটি হাসপাতাল রয়েছে। মঠটি সকাল ৭ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য খোলা থাকে।  




    • দুবরে এলিফ্যান্ট ক্যাম্প: 

      Dubare Elephant Camp হলো কুর্গের একটি অনন্য পর্যটন কেন্দ্র যা কাবেরী নদীর তীরে অবস্থিত। এটি মূলত কর্ণাটক বন দপ্তরের একটি প্রকল্প যেখানে হাতিদের প্রশিক্ষণ এবং দেখাশোনা করা হয়।
      দর্শনার্থীরা এখানে হাতিদের স্নান করানো (Elephant Grooming), তাদের খাবার খাওয়ানো এবং মাহুতদের থেকে তাদের জীবনযাত্রা সরাসরি দেখবার সুযোগ পান। এই ক্যাম্পে পৌঁছাতে হলে পর্যটকদের নৌকা করে কাবেরী নদী পার হতে হয়, যা একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। এখানে কাবেরী নদীর অগভীর জলে অনেকে রিভার রাফটিংও উপভোগ করেন।

      ঘন জঙ্গলের মাঝে এই ক্যাম্পটি অবস্থিত হবার ফলে পাখি দেখার (Bird watching) জন্যও চমৎকার জায়গা।

      সকালে (৯:০০ AM - ১১:০০ AM) এবং বিকেলে (৪:৩০ PM - ৫:৩০ PM) পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে। সকালে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো কারণ তখন হাতিদের স্নান করানো এবং খাওয়ানো দেখা যায়।

      এখানে রাত্রে থাকার জন্য সেখানে হোটেল পাওয়া যায় ও আশেপাশে বেশ কিছু হোমস্টের ব্যবস্থা রয়েছে।


    • মান্দালপট্টি ভিউ পয়েন্ট: 

      Mandalpatti View Point বা মান্দালপট্টি ভিউ পয়েন্ট হলো কুর্গের অন্যতম রোমাঞ্চকর এবং জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এটি মাদিকেরি শহর থেকে প্রায় ২৫ কিমি দূরে ফরেস্ট এরিয়ার মধ্যে অবস্থিত। 

      মান্দালপট্টি যাওয়ার মূল আকর্ষণ এখানের শেষ কয়েক কিলোমিটারের দুর্গম রাস্তা। সাধারণ গাড়ি সেখানে যেতে পারে না, তাই পর্যটকদের স্থানীয় ফোর-হুইল ড্রাইভ (4x4) জিপ ভাড়া করতে হয়। উঁচু-নিচু এবং পাথুরে রাস্তার মধ্য দিয়ে জিপে করে পাহাড়ের চূড়ায় যাওয়া এক দারুণ রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

      মান্দালপট্টির চূড়ার ঠেলে চারদিকে দিগন্ত বিস্তৃত পশ্চিমঘাট পর্বতমালার সবুজ পাহাড় এবং মেঘের খেলা দেখতে পাবেন। এই জন্য একে অনেক সময় 'কুয়াশার পাহাড়' বলা হয়।

      যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তারা জিপে না গিয়ে নিচের বেস ক্যাম্প থেকে ট্রেকিং করেও ওপরে উঠতে পারেন।

      বর্ষাকালের পর অর্থাৎ অক্টোবর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে এখানে যাওয়ার সেরা সময়। তবে বর্ষাকালে গেলে চারপাশ অনেক বেশি সবুজ থাকে এবং মেঘের খেলা বেশি দেখা যায়।

      এই জায়গাটি সকাল ৬:০০ টা থেকে বিকেল ৫:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। 

      খরচ সম্পর্কে যদি বলি, জিপ ভাড়ার জন্য সাধারণত ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা লাগতে পারে যা সিজিন হিসাবে কম-বেশি হয়।  এটি পুরো গাড়ির ভাড়া। একটি গাড়িতে ৫-৬ জন যাওয়া যায় । এছাড়া বন দপ্তরের আওতায় এই জায়গা হবার ফলে বনদপ্তর এখানে প্রবেশ মূল্য হিসাবে অল্প কিছুটাকা নিয়ে থাকে। জায়গাটি সম্পূর্ণ ভাবে প্লাস্টিক বর্জিত হওয়ায় এখানে কোনো প্রকার প্লাস্টিকের প্যাকেট এক বার ব্যবহার যোগ্য প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে যাওয়া যায়না।  

      একটা টিপস, ওপরে ওঠায় অনেক সময় বাতাসের বেগ অনেক বেশি থাকে এবং ঠান্ডা লাগে, তাই সাথে হালকা জ্যাকেট বা সোয়েটার রাখা ভালো। এছাড়া ওপরে কোনো দোকান বা খাওয়ার জায়গা নেই, তাই জল এবং শুকনো খাবার সাথে রাখবেন।



    • তালা কাবেরী - 

      Talakaveri হলো দক্ষিণ ভারতের প্রধান নদী কাবেরীর উৎসস্থল। এটি কুর্গের ব্রহ্মগিরি পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত যা ধর্মীয় ও প্রাকৃতিক উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। মাদিকেরি শহর থেকে এই জায়গাটি প্রায় ৪৪ কিমি দূরে অবস্থিত। গাড়ি যেতে ১.৫ ঘণ্টার মতো সময় লাগে।


      এখানে একটি ছোট কুণ্ড বা জলাধার রয়েছে যাকে 'ব্রহ্ম কুণ্ড' বলা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, কাবেরী নদী এখান থেকেই উৎপত্তি লাভ করেছে। বছরের নির্দিষ্ট দিনে (তুলা সংক্রান্তি) এখান থেকে অলৌকিকভাবে জলের ধারা প্রবাহিত হতে দেখা যায়। এখানে ভগবান অগস্ত্যেশ্বর এবং গণেশের মন্দির রয়েছে। তীর্থযাত্রীরা সাধারণত এখানে পবিত্র স্নান সেরে পুজো দেন।

      মন্দিরের ঠিক পাশেই ব্রহ্মগিরি পাহাড়ে ওঠার জন্য সিঁড়ি রয়েছে। ওপরে উঠলে চারপাশের সবুজ পাহাড় এবং উপত্যকার এক চমৎকার ৩৬০-ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায়।

      যেহেতু এটি একটি পবিত্র ধর্মীয় স্থান, তাই এখানে মার্জিত পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। হাফ প্যান্ট বা ছোট পোশাক পরে মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ।

      তালাকাবেরী বেশ উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায়ই ঘন কুয়াশা থাকে এবং আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা থাকে।

      Bhagamandala হলো কাবেরী, কন্নিকে এবং সুজ্যোতি নদীর একটি পবিত্র মিলনস্থল বা ত্রিবেণী সঙ্গম, যা কুর্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। জায়গাটি তালা কাবেরী যাবার রাস্তায় ফলে সময় পেলে এই জায়গাটিও ঘুরে নিতে পারেন। 


    • মাদিকেরি দুর্গ ও রাজপ্রাসাদ

      মাদিকেরি দুর্গ কর্ণাটকের কোডাগু জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। ১৬৮১ সালে হাল্লেরি রাজবংশের রাজা মুদ্দুরাজা এই দুর্গটি প্রথম কাদা দিয়ে নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ১৭৯০ সালে টিপু সুলতান এটি পাথর দিয়ে পুনর্নির্মাণ করেন এবং এর নাম দেন 'জাফরাবাদ'। ১৮১২ থেকে ১৮১৪ সালের মধ্যে রাজা লিঙ্গরাজেন্দ্র দ্বিতীয় দুর্গের অভ্যন্তরে বর্তমান রাজপ্রাসাদটি নতুন করে গড়ে তোলেন। 

      স্থাপত্যের দিক থেকে এই প্রাসাদটি অনন্য, কারণ এতে ইউরোপীয় এবং স্থানীয় কোডভা শৈলীর মিশ্রণ দেখা যায়। দুর্গের উত্তর-পূর্ব দিকে পাথরের তৈরি দুটি বিশাল হাতির মূর্তি রয়েছে।ব্রিটিশ শাসনামলে দুর্গের ভেতরে একটি গির্জা (সেন্ট মার্কস চার্চ) তৈরি করা হয়েছিল, যা বর্তমানে কর্ণাটক প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের অধীনে একটি সরকারি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

       এই ঐতিহাসিক দুর্গটি মাদিকেরি শহরের প্রায় কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। মাদিকেরি প্রধান বাস স্ট্যান্ড থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১ কিলোমিটার। পর্যটকরা খুব সহজেই পায়ে হেঁটে বা অটো-রিকশায় এখানে পৌঁছাতে পারেন।

    • কি খাবেন? (Local Cuisine)

      কুর্গের খাবার তার নিজস্ব মশলা এবং স্বাদের জন্য বিখ্যাত। ভিডিওতে এগুলো অবশ্যই দেখাবেন:

      • পান্ডি কারি (Pork Curry): কুর্গের সবচেয়ে জনপ্রিয় আমিষ পদ।

      • আক্কি রুটি (Akki Roti): চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি রুটি।

      • কাদাম্বুট্টু (Kadambuttu): ভাপে তৈরি চালের বল যা মাংসের ঝোলের সাথে খাওয়া হয়।

      • কুর্গি কফি: যেহেতু এটি কফি চাষের এলাকা, এখানকার ফ্রেশ কফি ট্রাই করতে ভুলবেন না।

    • কোথায় থাকবেন ও খরচ (Stay & Cost)

      থাকার জায়গা:

      • হোমস্টে (Homestay): কুর্গের আসল অভিজ্ঞতা পেতে কফি বাগানের ভেতরে কোনো হোমস্টে-তে থাকুন। (খরচ: ১,৫০০ - ৩,০০০ টাকা প্রতি রাত)।

      • রিসোর্ট ও হোটেল: মাদিকেরি শহরে বাজেটের মধ্যে হোটেল পাওয়া যায়। (খরচ: ২,০০০ - ৫,০০০ টাকা)।





      আনুমানিক খরচ (Estimated Cost):

      • বাজেট ট্রিপ (২ রাত ৩ দিন): জনপ্রতি ৮,০০০ - ১০,০০০ টাকা (বেঙ্গালুরু থেকে যাওয়া-আসা এবং থাকা-খাওয়া সহ)।

      • লাক্সারি ট্রিপ: ১৫,০০০ - ২০,০০০ টাকা বা তার বেশি।

  • ৩ দিনের আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা (Detailed Itinerary)

    দিন ১: কুশলনগরে প্রবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

    • সকাল: বেঙ্গালুরু থেকে রওনা হয়ে প্রথমে যান বাইলকুপ্পে (Bylakuppe)। এখানে গোল্ডেন টেম্পল বা নামড্রোলিং মনাস্ট্রি দেখুন। (সময়: ১-১.৫ ঘণ্টা)।

    • দুপুর: কাছেই অবস্থিত কাবেরী নিসর্গধাম (Nisargadhama) ঘুরে দেখুন। এটি একটি বাঁশ বাগান ঘেরা দ্বীপ যেখানে হরিণ পার্ক এবং ঝুলন্ত ব্রিজ আছে।

    • বিকেল: দুবরে এলিফ্যান্ট ক্যাম্প (Dubare Elephant Camp)এখানে হাতিদের গোসল করানো বা খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। (মনে রাখবেন, বিকেলের সাফারি ৫টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়)।

    • রাত: মাদিকেরি (Madikeri) শহরে চেক-ইন এবং বিশ্রাম।

    দিন ২: কফি বাগান এবং জলপ্রপাত

    • সকাল: জিপ ভাড়া করে চলে যান মান্দালপট্টি (Mandalpatti) ভিউ পয়েন্টে। মেঘের ওপর দিয়ে অফ-রোড জিপ রাইড আপনার ভিডিওর সেরা দৃশ্য হতে পারে।

    • দুপুর: ফেরার পথে অ্যাবে ফলস (Abbey Falls) দেখুন। এরপর কোনো একটি কফি বাগানে (Coffee Plantation) ট্যুর করুন এবং কফি তৈরির প্রক্রিয়া রেকর্ড করুন।

    • বিকেল: মাদিকেরি ফোর্ট (Madikeri Fort) এবং পাশেই অবস্থিত ওমকারেশ্বর মন্দির (Omkareshwara Temple) দর্শন।

    • সন্ধ্যা: রাজাস সিট (Raja's Seat) এ সূর্যাস্ত দেখে দিনটি শেষ করুন।

  • দিন ৩: আধ্যাত্মিকতা ও বিদায়
    • সকাল: তালাকাবেরী (Talakaveri) এবং ভাগমন্ডল (Bhagamandala) এটি কাবেরী নদীর উৎসস্থল এবং এখান থেকে ব্রহ্মগিরি পাহাড়ের ভিউ দারুণ আসে।

    • দুপুর: ফিরতি পথে চিকলিহোল ড্যাম (Chiklihole Reservoir) ঘুরে দেখতে পারেন, যা বেশ শান্ত ও নিরিবিলি।

    • বিকেল: মহীশূর বা বেঙ্গালুরুর উদ্দেশ্যে রওনা।

    • অফবিট বা লুকানো রত্ন (Offbeat Places for unique shots)

      • মাল্লাল্লি ফলস (Mallalli Falls): উত্তর কুর্গে অবস্থিত এই জলপ্রপাতটি কুর্গের অন্যতম সুন্দর কিন্তু ভিড় কম হয়।

      • তাদিয়ানডামোল পিক (Tadiandamol Peak): যারা ট্রেকিং পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি কুর্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

      • চেলভারা ফলস (Chelavara Falls): কফি বাগানের গভীরে অবস্থিত একটি মনোমুগ্ধকর জলপ্রপাত।

      • প্রবেশমূল্য ও সময়সূচী (Entry Fees & Timings)

        স্থানপ্রবেশমূল্য (জনপ্রতি)সময়সূচী
        গোল্ডেন টেম্পলবিনামূল্যেসকাল ৯:০০ - সন্ধ্যা ৬:০০
        অ্যাবে ফলস১০ টাকাসকাল ৯:০০ - বিকেল ৫:০০
        নিসর্গধাম১০ টাকা (বড়দের)সকাল ৯:০০ - বিকেল ৫:০০
        মাদিকেরি ফোর্টবিনামূল্যে (সোমবার বন্ধ)সকাল ১০:০০ - বিকাল ৫:৩০
        মান্দালপট্টি জিপ৪,০০০ - ৫,০০০ টাকা (পুরো জিপ)সকাল ৬:০০ - বিকেল ৫:০০

ফুলের স্বর্গরাজ্য “ভার্সে” একদিন

  ফুলের স্বর্গরাজ্য  “ভার্সে” একদিন  —----------------------------- ---------  রবিবার , ১১ এপ্রিল ২০২১ করোনার লক-ডাউনে  দমবন্ধ হয়ে বেশ কয়ে...